বাড়তি ওজন কমাতে চান ? বানিয়ে ফেলুন ৩টি হোমমেইড ড্রিংকস

পৃথিবী যতই সামনের দিকে এগচ্ছে, ততই যেন কঠিন হয়ে পড়ছে মানুষের জীবনযাত্রা। এই যেমন সারাদিন অফিসে বসে কাজ করা, আর বাসায় গেলে ল্যাপটপের বা টিভি নিয়ে বসে পড়া, পছন্দ মত ফাস্টফুড খাওয়া, ব্যায়াম আর শারীরিক পরিশ্রম একদমই কম করা- সব মিলিয়ে হেলদি লাইফ মেনটেইন করা একদম অসম্ভব হয়ে যায়।

তারসাথে নিত্য দিনের কাজের প্রেসার আর নানা দুশ্চিন্তার তো আছেই ফলে স্ট্রেস হরমোন বাড়তে থাকে। আর এই স্ট্রেস হরমোন যত বাড়তে থাকবে, ততো বেশি সুগার ক্রেভিং বা শর্করার প্রতি আসক্তি ততো বেশি বাড়ে। যার ফলে বাড়তে থাকে শরীরিক ওজন। আর এই বাড়তি ওজন কমানোর জন্য আমরা অনেক কিছুই ভাবি কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায় কিছুই করা হয় না।

Read More - অনলাইন থেকে আনলিমিটেড টাকা ইনকাম করার সহজ মাধ্যম

ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন কি?

NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা

কোম্পানির ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কী ? 

bkash live chat | বিকাশ লাইভ চ্যাট 

বাড়তি ওজন কমাতে চান ? বানিয়ে ফেলুন ৩টি হোমমেইড ড্রিংকস | 3 best weight loss natural drinks

তার জন্য শুরুতে কঠিন কিছু করার চেষ্টা না করে সহজ কোনো কাজ দিয়ে ওজন কমানোর প্রথম স্টেপ শুরু করি।

আর এই স্টেপ হতে পারে এমন যে ঘরে বানানো কিছু পানীয় পান করা। কিন্তু শুধু এই পানীয় পানেই যে ওজন কমে যাবে এমনটা নয়, ভালো থাকার জন্য কিছু ব্যায়ামও করতে হবে এর সাথে। তাহলে চলুন শিখে নেই কি করে হোমমেইড ড্রিংকসগুলো বানাতে হয় আর বানানোর উপায় জেনে নেই।

{tocify} $title={Table of Contents}

অতিরিক্ত ওজন কমাতে ৩টি ঘরোয়া পদ্ধতির পানীয় 

আদা-লেবুর পানীয়

যখন কথা আসে ওজন কমানোর তখনই সবার আগে মাথায় আশে আগে লেবুর নামটাই। কিন্তু অন্যসকল পানীয়র সাথে এটার তফাৎ হচ্ছে, এখানে লেবুর রস ও লেবুর খোসা দুটোই ব্যবহার করা যাবে। আর ওজন কমাতে লেবু এবং আদা কীভাবে সাহায্য করে চলুন জেনে নেয়া যাক-

অতিরিক্ত ওজন কমাতে লেবু আর আদার উপকারিতা

লেবুতে ভিটামিন সি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে, ফোলেট ও পটাশিয়াম- আমাদের শরীরে যা অনেকভাবে উপকার করে থাকে। যেমন- ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে,ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমায়, হজমশক্তি বাড়ায়, ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধ করে,আয়রন শরীরে শোষিত হতে সাহায্য, রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া লেবুর খোসায় রয়েছে লেবুর রসের চেয়েও ৩ গুণ বেশি ভিটামিন সি ও সাইট্রিক এসিড। বলা হয়ে থাকে, সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে পাথর হওয়া থেকে সাহায্য করে।

আর আদা আমাদের দেহের জন্য অনেকটা ঔষধের মতো। যেমন- প্রদাহের ঝুঁকি কমায়, হজমে সাহায্য করে, বমিভাব প্রতিরোধ করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, অ্যালঝেইমারের ঝুঁকি কমায়, রক্তের শর্করা কমাতে সাহায্য করে এবং রেসপিরেটরি ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে থাকে।

ওজন কমানোর পানীয় বানানোর পদ্ধতি

প্রথমে একটি লেবু কেটে নিয়ে তার রস চিপে বের করে ফেলুন তারপর খোসাটাকে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। এরইসাথে এক ইঞ্চি আদার নিন আদার খোসা ছিলে নিন সেটাকে গ্রেট করে নিন। এবার চুলায় একটি পাত্র বসিয়ে এক লিটার সমপরিমাণ পানি দিয়ে এতে টুকরো করে রাখা লেবুর খোসা ও এক চা চামচ গ্রেট করে রাখা আদা দিয়ে দিন। সাথে কয়েকটি গোলমরিচ ও একটি দারুচিনি দিয়ে দিন।

তারপর টুকরো করে দেয়া লেবুর খোসা গুলো নরম হয়ে আসলে নামিয়ে ফেলুন। এখন গ্লাসে ঢেলে নিয়ে এতে অ্যাড করে দিন মধু ও লেবুর রস। মধুটা এতে আনবে হালকা মিষ্টি ভাব তারই সাথে রয়েছে হজমে সাহায্য করার জন্য কিছু উপাদান। খালি পেটে প্রতিদিন সকালে এই পানীয় টি খেলে হতে পারে আপনার ওজন কমানোর প্রথম ধাপ।

ওজন কমানোর দারুচিনির বা জিরা পানীয়

জিরা শুধুমাত্র একটি মশলাই নয় বরং ওজন কমাতেও এর অবদান আছে। জিরাতে রয়েছে কিউমিন্যালডিহাইড। জিরা সুগন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি আমাদের পরিপাক গ্রন্থিকে সুস্থভাবে কাজ করতে সাহায়তা করে। জিরাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই যা আমাদের স্কিনে বলিরেখা পড়তে বাঁধা দেয়। তাছাড়া জিরা আমারে আরও অনেক ভাবে সাহায্য করে থাকে চলুন তা জেনে নেয়া যাক-

  • কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে
  • অ্যানিমিয়া রোধ করতে সহায়তা করে

আর একটি পানীয়র উপাদান হলো দারুচিনি। যেটা শুধু সুগন্ধই ছড়ায় না, বরং একে বলা হয়ে থাকে "পাওয়ার হাউজ অব অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস"। এর গুণের জন্য প্রতিদিন দারুচিনি একটু করে হলেও আমাদের সবারই খাওয়া উচিত। দারুচিনি আরও আমাদের যেভাবে সাহায্য করে থাকে সেটা হচ্ছে আমাদের রক্তে শর্করা কমাতে সাহায়তা করে থাকে।

আর প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কম থাকে এবং ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায়তা করে

ওজন কমানোর দারুচিনি পানীয় বানোর পদ্ধতি 

প্রথমে একটি পাত্রে এক লিটার পানি নিয়ে চুলায় ফুটিয়ে নেন। এবার এই ফাটানো পানিতে ৩ চা চামচ জিরা ও ২টা দারুচিনি দিয়ে দিবেন। তারপর পানিটা ৫থেকে১০ মিনিটের মতো ফুটিয়ে নিন ফাটানো হয়ে লেগে পানি ছেঁকে গ্লাসে ঢেলে নিন তাতে কিছুটা লেবুর রস ও মধু অ্যাড করুন। তাহলেই হয়ে গেলো অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য আরো একটি নতুন পানীয় একদম রেডী!

ওজন কমানোর চিয়া লেবুর পানীয়

অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য ইদানীং চিয়া বীজ বা চিয়া সীডের কথা খুব বেশিই শোনা যাচ্ছে। বাড়তি ওজন কমাতে সবচেয়ে কার্যকরী হিসেবে চিয়া বীজকে ধরা হয়, কারণ-

চিয়া বীজে অনেক পরিমাণে ফাইবার থাকে যেটা অনেক সময় পর্যন্ত পেটকে ভরা রাখে আর ক্ষুধা লাগে কম, তো যার ফলে বারবার স্ন্যাকস খাওয়ার ইচ্ছে করে না। তবে স্কিনের জন্যও এটি বেশ বেনিফিসিয়াল কারণ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট 

ওজন কমানোর চিয়া লেবুর পানীয় বানানোর পদ্ধতি 

তো প্রথমেই নিয়ে নিবেন ২ চা চামচ চিয়া বীজ এবং এটা ৫ মিনিটের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। চিয়া বীজগুলো হালকা ফুলে উঠলে একটি পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় বসিয়ে হালকা গরম করে নিবেন। তারপর পানি ও চিয়া বীজগুলো গ্লাসে ঢেলে এতে মিশিয়ে নিবেন কিছুটা লেবুর রস ও মধু। বাড়তি ওজন কমানোর জন্য খালি পেটে প্রতিদিন সকালে এই পানিয়টিও পান করতে পারেন।

পরিশেষে

আমরা আজকে এই পোস্টের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, কিভাবে অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন কমানো যায়, আর তা নিয়ে আমাদের চিন্তার যেনো শেষ নেই। অথচ দেখা যায় আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে বিভিন্ন উপাদান যা দিয়ে ওজন কমানোর প্রথম ধাপটি শুরু করা যেতে পারে। প্রথম বলার কারণ হলো, শুধুমাত্র পানীয় পানেই শেষ নয়, এর সাথে আমাদের খাবার কন্ট্রোল ও নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করতে হবে। সবাই সুস্থ থাকর চেষ্টা করবো ও ভালো থাকবো।

Post a Comment

Previous Post Next Post